লিনাক্স নিয়ে ধারাবাহিক পর্বের আজ ২য় পর্ব







গত পর্বে জিজ্ঞেস করেছিলাম লিন্যাক্স কি ?? 

অনেকে মনে করেন লিনাক্স একটি অপারেটিং সিস্টেম। কিন্তু আসলে লিনাক্স কোন অপারেটিং সিস্টেম নয়, বরং এটি হলো একটি কার্নেল। কার্নেল মূলত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে।
কার্নেল নিয়ে পরে আলোচনা করছি। এবার আলোচনা করবো লিনাক্স এর বাকী ইতিহাস নিয়ে।
রিচার্ড স্টলম্যানের পর এবার আসি লিনুস বেনেডিকট নিয়ে , নোবেল বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদলিনুস পলিংএর সাথে মিল রেখে বাবা মা সখ করে ছেলের নাম রাখেন লিনুস বেনেডিক্ট টরভাল্ডস
লিনুস এর দাদা , বাবা , মা সবাই সাংবাদিক ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই লিনুস এর খেলাধুলা বা অন্যসব কিছুতে উৎসাহ কম ছিল , সারাদিন নিজেকে নিয়েই থাকত , এমন সময় তার নানা তাকে কিনে দিল একটি কম্পিউটার ( কমোডোর ভি আই সি-২০ ) , তখনকার কম্পিউটারে প্রোগ্রাম ছিল অনেক কম ফলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই লিনুস এই কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলল , কম্পিউটারকে ভাল মত বুঝার জন্য এবং নিজের কৌতুহলকে পরিপুর্নতা দেয়ার জন্য লিনুস শুরু করল প্রোগ্রামিং।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় লিনুস কিনল এম এস ডস অপারেটিং সিস্টেম এর আইবিএম ইন্টেল ৩৮৬ প্রসেসর এর কম্পিউটার, কিন্তু তাতেও লিনুসের মনপূত না ......

লিনুস চেয়েছিল ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহার করতে, কিন্তু তা সম্ভব ছিল না কারন তখন ইউনিক্স এর দাম ছিল ৫০০০ ডলার , লিনুস তখন মিনিক্স নিয়ে বসল (ইউনিক্স মিনিক্স অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে অন্য একদিন বলা হবে ) , একটি সময় সে বুঝতে পারল মিনিক্স অতটাও কাজের কিছু নয় , হঠাৎ করেই স্বিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল নিজের মন মত অপারেটিং সিস্টেম বানাবে , লিনুস শুরু করল তার কাজ , এর জন্য সে রিচার্ড স্টলম্যান এর গ্নু সি কম্পাইলার গ্নু ব্যাকশেল , কঠোর পরিশ্রমের পর সে একটি কাঠামো গঠন করে ফেলল , লিনুস মিনিক্স ইউজার গ্রুপের সাবার কাছে তার নতুন অপারেটিং সিস্টেম এর কাজের কথা জানালো ১৭ জুন ভার্সন .০১ সে উন্মুক্ত করে দিল , যেন সবাই নিজের মত করে সিস্টেমকে নতুন কিছু সংযুক্ত করে বা ভুল গুলো সংশোধন করে আপডেট জমা দিতে পারে অই বছরের ডিসেম্বরেই ভার্শন .১০ এসে পরে, লিনুসের বন্ধু এরি লিনুসকে বুদ্ধি দিল তার তৈরী সিস্টেমকে এফটিপি সার্ভারে দেয়ার জন্য যেন সবাই সহজেই এটি পেতে পারে , লিনুস তার সিস্টেম এর নাম দিয়েছিল FREAKS ( free+Freak+Unix)
কিন্তু লিনুসের বন্ধু এরি সার্ভারের ফাইল আপলোড করার সময় ফাইল এর নাম দিল Linux ( Linus+Unix ) , ফলাফল স্বরুপ নিলুসের দেয়া আসল নাম হারিয়ে গেল এবং লিন্যাক্স নামে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
লিন্যাক্স এর লোগো তৈরির স্বিদ্ধান্ত হল , কোন লোগই লিনুসের পছন্দ হল না অবশেষে লিনুসের কথা মতই একোটি পেঙ্গুইন হয়ে গেল লিন্যাক্স এর লোগো ...... কথিত আছে লিনুস নাকি কোন একসময় অবকাশ যাপন এর সময় এক পেঙ্গুইন এর কামড় খেয়েছিল তখন থেকেই নাকি এর লোগোর জন্য পেঙ্গুইনের ব্যাপারটা লিনুস এর মাথায় ছিল |

লিনাক্স কেনো ব্যাবহার করবো?

লিনাক্স কি তার সম্পর্কে এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন। এবার চলুন আলোচনা করি কেন এটি আমরা ব্যবহার করবো তা নিয়ে।
আজকের দিনে সবচাইতে জনপ্রিয় কম্পিউটিং অপারেটিং সিস্টেম হলো উইন্ডোজ। আর হাঁ, উইন্ডোজ অবশ্যই তার নিজের ক্ষেত্রে থেকে অনেক ভালো আকজ করছে। কিন্তু উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম গুলো ইউজার এবং ডেভেলপারদের কাছে যা ইচ্ছা তা করার অনুমতি প্রদান করে না।
আপনি উইন্ডোজ মেশিনের অ্যাডমিন হয়েও অনেক ফাইল মোডিফাই করতে পারবেন না। আপনি যদি একজন গেমার হোন বা সাধারন কম্পিউটিং করেন তবে উইন্ডোজ আপনার কাছে উত্তম একটি অপারেটিং সিস্টেম। কিন্তু আপনি যদি ডেভেলপার হোন তবে উইন্ডোজে আপনি সর্বাধিক স্বাধীনতা পাওয়া থেকে বার্থ হবেন। কারন এটি একটি ক্লোজড অপারেটিং সিস্টেম।
কিন্তু অপর দিকে লিনাক্স সম্পূর্ণ ফ্রী একটি কার্নেল। যেখানে বহুত ডিস্ট্রো রয়েছে এই কার্নেলের সাথে কাজ করার জন্য। এবং এর সাথে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। প্রায় সকল কম্পিউটিং পরিবেশের জন্যই আলদা ডিস্ট্রো রয়েছে। যেমন ডেক্সটপ কম্পিউটিং এর জন্য উবুন্তু বা মিন্ট রয়েছে, মোবাইলের জন্য রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড এমনকি লিনাক্স ভার্সন সুপার কম্পিউটারেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
লিনাক্স সর্বদা ফোকাস করে থাকে নিরাপত্তা এবং শক্তিশালী হওয়ার উপর। কিন্তু অপরদিকে উইন্ডোজ সর্বদা ফোকাস করে ব্যাবহারের সুবিধার উপর। এই জন্য অধিকাংশ সার্ভার এবং হাই টেক নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় সর্বদা লিনাক্সকে কাজে নেওয়া হয় এবং এটি জটিল কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য মারাত্মকভাবে জনপ্রিয়। তাই আমি মনে করি লিনাক্স ভার্সন কম্পিউটিং এর জন্য উইন্ডোজের সর্বউত্তম বিকল্প। তাছাড়া লিনাক্স উইন্ডোজের তুলনায় অনেক হালকা ওজনের হয়ে থাকে। যার জন্য এটি তাদের জন্য সর্বউত্তম যারা তাদের পার্সোনাল মেশিনে অনেক ফাস্ট কম্পিউটিং অভিজ্ঞতা পেতে চায় এমনকি লো কনফিগার মেশিনেও। 

গত কয়েক বছরে লিনাক্স ডেস্কটপ ডিস্ট্রো অনেক পরিবর্তিত হয়ে সহজ ইউজার ইন্টারফেসে আনা হয়েছে। ফলে আপনি যদি উইন্ডোজ কিংবা ম্যাক ব্যাবহারেও অভ্যস্ত হোন তবুও লিনাক্স আপনার কাছে কঠিন মনে হবে না। তাই এটি একটি বড় কারন হতে পারে আপনার হোম পিসিকে লিনাক্সে মাইগ্রেড করার জন্য।

Comments

Popular posts from this blog

হ্যাকার / কোডারদের প্রিয় লিন্যাক্স এর ইতিহাস

7 guidelines to succeed in the game of Social Media Marketing

হযরত নূহ (আঃ) জীবনী